Onlinebdpolitics By Animesh Panday

বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান না সব কাফেরদের

Author:
Animesh Panday

Share on :

“ধরা যাক বেগম রোকেয়া কাফের, মুরতাদ। তাতে অসুবিধা কী? বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ কাফের। ইতিহাসে অধিকাংশ জ্ঞানী লোক কাফের। সব উন্নত দেশ কাফের। আমেরিকা, জাপান, ইউরোপ, সবখানে সৎ নির্ভেজাল মানুষরা কাফের। হজ্বে যাওয়া লাগে কাফেরদের বিমানে চড়ে। বোয়িং, এয়ারবাস, এসব কাফেরদের কোম্পানি। এন্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল, কাফেরদের তৈরি। বাস, ট্রাক, টুথপেস্ট, লুঙ্গি বানানোর মেশিন, সবই কাফেরদের তৈরি। এমনকি আন্ডারপ্যান্টও। কাবা ঘরও কাফেররা নির্মাণ করেছিলো। মুসলমানরা মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাবাঘর ধ্বংস করে দিয়েছিলো। ৬৮৩ সালে। সেই ভাঙা কাবা মেরামতে কাফের শ্রমিক, কাফের ইঞ্জিনিয়ার দরকার পড়েছিলো। ছাপাখানায় প্রথম কোরান প্রিন্ট করেছিলো কাফেররা। ইউরোপে। জায়নামাজ, টুপি, পাগড়ি, এগুলো কাফেরদের যন্ত্রে তৈরি হচ্ছে। আজান দেয়া হয় কাফেরদের তৈরি মাইকে। মসজিদের টাইলস কাফেরদের মেশিনে বানানো। মুসলমানদের আছেটা কী এই মুহুর্তে? যাদের নিয়ে গর্ব করা হয়, মুসলিম বিজ্ঞানী মুসলিম দার্শনিক বলে, ইবনে সিনা, জাহিজ, রুশদ, এঁদের সবাইকে একসময় কাফের ফতোয়া দেয়া হয়েছে। ইবনে সিনা কোরান আল্লাহর বাণী, এটা বিশ্বাস করতেন না। আল-জাহিজ আদম-হাওয়ার গল্প অবিশ্বাস করতেন। বিবর্তনবাদ সমর্থন করতেন। সব জ্ঞানী মুসলমানকেই মূর্খ মুসলমানরা কাফের ডাকতো। বিজ্ঞানী আব্দুস সালামের কবর পাকিস্তানী মুসলমানরা ভেঙে দিয়েছিলো। এগুলো নতুন নয়। মূর্খের সাথে জ্ঞানীর ধাক্কাধাক্কি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। রোকেয়া তো নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়, নিজেই ধর্ম, তাঁর ভার ডিগ্রিওয়ালা ছা*গ/ল কী করে বইবে? কাফেররা মুসলমান ছাড়া চলতে পারবে, পারছে, কিন্তু মুসলমানরা কাফের বাদ দিলে নেংটো ঘুরবে। চীনের লোকজন কাফের, বাঙালি মুসলমানের একটি সুতাও তাদের দরকার নেই, কিন্তু বঙ্গভণ্ডরা চীনা পণ্য ছাড়া এক ঘন্টাও কাটাতে পারবে না। মোবাইল, জিপিএস, গুগল ম্যাপ, মক্কায় কোথায় ঘুরবো, মদীনায় কোন হোটেলে উঠবো, সবই কাফেরদের সফটওয়ারে খুঁজছে। অকৃতজ্ঞতার সীমা আছে। কিন্তু মুসলমানের অকৃতজ্ঞতা সীমাহীন। ধানকাটা, হালচাষ, চাল ভাঙা, আটা ভাঙা, সবই কাফেরদের যন্ত্রপাতি দিয়ে করা হচ্ছে। ফেসবুকে যে-রঙের মুসলমান দেখি, চরিত্র ও চেহারা দুটিই কুৎসিত, এদের চেয়ে কাফের আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয় হওয়ার কথা। রাজশাহীর যে-জন্তু রোকেয়াকে মুরতাদ বলেছে, সে বেহেশতে যাবে, আর রোকেয়া দোযখে, এটা আমি বিশ্বাস করবো? আল্লাহর গুণাবলীর সাথে তা যায়? আহমদুল্লাহ, মিজান আজহারী, এরা জান্নাতে ফলমূল খাবে, আর নিউটন রবীন্দ্রনাথ প্লাংক আইনস্টাইন এঁরা জাহান্নামে পুড়বে, এর চেয়ে হাস্যকর দৃশ্য হয়? মূর্খতার যে-বাগান বাংলাদেশে দেখছি, তাতে কাফের হওয়াকে অনেকেই

Share on :

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit
Telegram
Email
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
Related post
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
Scroll to Top